পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নতুন পে-স্কেল ও ফিক্সেশনের ফাঁকফোকর: ১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের প্রত্যাশা বনাম আশঙ্কার বাস্তব চিত্র কি?

দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই কর্মচারীদের মনে যেমন আশার সঞ্চার হয়, তেমনি এর জটিল ফিক্সেশন প্রক্রিয়া এবং ইনক্রিমেন্ট নীতি নিয়ে তৈরি হয় গভীর শঙ্কা। সম্প্রতি ১১তম গ্রেডের একটি সম্ভাব্য বেতন ফিক্সেশন ও পরবর্তী ধাপের হিসাব-নিকাশ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পদ্ধতিগত কিছু ত্রুটির কারণে কর্মচারীরা কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

নিচে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হলো।

১. ফিক্সেশনের জটিল সমীকরণ ও বর্তমান চিত্র

বর্তমানে ১১তম গ্রেডে চাকরিরত একজন কর্মচারীর মূল বেতন বা বেসিক ২৯,০০০ টাকা। নতুন একটি সম্ভাব্য কাঠামো অনুযায়ী এই গ্রেডের বেতন দ্বিগুণ হয়ে ২৫,০০০ টাকা (প্রাথমিক বা নতুন স্কেল ধরে) নির্ধারিত হওয়ার কথা আলোচনা রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী ফিক্সেশনের সময় নতুন মূল বেতন (২৫,০০০ টাকা) থেকে পূর্বের স্কেলের সমতুল্য অংশ বা প্রযোজ্য ভিত্তি (যেমন: ১২,৫০০ টাকা) বিয়োগ করা হবে। এরপর বর্তমানের ২৯,০০০ টাকার সাথে সেই ১২,৫০০ টাকা যোগ করলে যোগফল দাঁড়ায় ৪১,৫০০ টাকা

ধাপের মারপ্যাচ: নতুন স্কেলে ৪১,৫০০ টাকার সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ধাপ বা ইনক্রিমেন্ট স্লট না থাকায় নিকটবর্তী উচ্চতর ধাপ হিসেবে তা ৪২,৬৯০ টাকায় ফিক্সেশন হবে। এই প্রক্রিয়াটি কার্যকর হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুলাই মাসে।

২. ইনক্রিমেন্ট ও গ্রেডের শেষ সীমার বাধ্যবাধকতা

আলোচ্য ২৫,০০০ টাকা মূল বেতনের স্কেলটির সর্বশেষ বা শেষ ধাপ ধরা হয়েছে ৪৭,০৬০ টাকা। বর্তমান ফিক্সেশন ও ইনক্রিমেন্টের গতিধারা অনুযায়ী, এই শেষ ধাপে পৌঁছাতে ওই কর্মচারীর আরও দুই ধাপ বাকি থাকবে, যা তিনি পাবেন ২০২৯ সালে

কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় এখানেই—

  • ২০২৯ সালে একবার শেষ ধাপে (৪৭,০৬০ টাকা) পৌঁছে যাওয়ার পর ওই গ্রেডে আর কোনো ইনক্রিমেন্ট বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সুযোগ থাকে না।

  • এর মধ্যে নতুন কোনো পে-স্কেল বা বেতন কমিশন গঠন না হলে, ওই কর্মচারীর বেতন সেখানে গিয়ে স্থবির হয়ে যাবে।

৩. ‘নীরব কান্নার’ নেপথ্য কারণ: বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের অনিশ্চয়তা

একজন চাকরিজীবী তার দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা প্রবৃদ্ধি আশা করেন। কিন্তু গ্রেডের শেষ ধাপে গিয়ে সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়। যদি নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট বা টার্মিনাল বেনিফিটের সুনির্দিষ্ট এবং চলমান কোনো সুরক্ষাবলয় না থাকে, তবে বহু অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কর্মচারী বছরের পর বছর একই বেসিকে আটকে থাকবেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ইনক্রিমেন্ট বন্ধ থাকা মানেই জীবনযাত্রার মানের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে না পেরে ভেতর থেকে ভেঙে পড়া—যাকে কর্মচারীরা প্রতীকী অর্থে ‘নীরব কান্না’ বলে অভিহিত করছেন।

উপসংহার ও করণীয়

বেতন স্কেল দ্বিগুণ বা আকর্ষণীয় করার ঘোষণা যতটাই স্বস্তিদায়ক, তার ফিক্সেশন প্রক্রিয়া এবং গ্রেড প্রগ্রেশনের মারপ্যাচ ততটাই জটিল। ১১তম বা সমমানের গ্রেডগুলোতে যাতে কর্মচারীরা দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থবিরতার শিকার না হন, সেজন্য ফিক্সেশন পলিসিতে ধাপের ব্যবধান এবং গ্রেড শেষ হওয়ার পরেও ইনক্রিমেন্ট চালু রাখার বা নিয়মিত বিরতিতে পে-স্কেল হালনাগাদ করার বিষয়টি নীতিধারকদের গভীরভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *