সরকারি চাকুরিজীবীদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম মাধ্যম হলো সাধারণ ভবিষ্য তহবিল বা জিপিএফ (GPF)। প্রতি মাসে বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ এই তহবিলে জমা হয়। বর্তমানে এই জমার স্থিতি বা ব্যালেন্স জানার প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল করা হয়েছে। এখন আর হিসাবরক্ষণ অফিসে না গিয়েই স্মার্টফোনের মাধ্যমে মুহূর্তেই দেখে নেওয়া যায় জিপিএফ ব্যালেন্স ও মুনাফার হিসাব।
অনলাইনে জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার ধাপসমূহ
অনলাইনে সরকারি কর্মচারীরা আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমের সমন্বিত তথ্যের মাধ্যমে তাদের জিপিএফ লেজার বা স্লিপ দেখতে পারেন। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
ওয়েবসাইট ভিজিট: প্রথমে যেকোনো ব্রাউজার থেকে www.cafopfm.gov.bd ঠিকানায় প্রবেশ করুন। অথবা গুগলে ‘cafopfm’ লিখে সার্চ করে প্রথম লিংকে ক্লিক করুন।
GPF Information অপশন: ওয়েবসাইটের নিচের দিকে স্ক্রোল করলে ‘GPF Information’ নামক একটি বক্স দেখা যাবে। সেখানে থাকা ‘Click Here’ বাটনে ক্লিক করুন।
তথ্য প্রদান: একটি পপআপ বক্স আসবে। এখানে নির্ধারিত ঘরে আপনার এনআইডি (NID/Smart ID) নম্বর এবং আইবাস++ এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরটি লিখুন।
ওটিপি (OTP) যাচাই: তথ্য দিয়ে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করার পর আপনার মোবাইলে একটি ৪ ডিজিটের ওটিপি কোড আসবে। কোডটি নির্ধারিত বক্সে লিখে পুনরায় ‘Submit’ করলেই আপনার জিপিএফ অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে।
এসএমএস এর মাধ্যমে ব্যালেন্স দেখা
অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও ব্যালেন্স জানার সুযোগ রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নির্ধারিত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। পদ্ধতিটি হলো:
মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন:
EPFOHO UANএটি পাঠিয়ে দিন 7738299899 নম্বরে।
ফিরতি মেসেজে আপনার জিপিএফ হিসাবের তথ্য চলে আসবে। (উল্লেখ্য, কারিগরি কারণে অনেক সময় এসএমএস সেবা বিঘ্নিত হতে পারে, সেক্ষেত্রে অনলাইন পদ্ধতিটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য)।
জিপিএফ মুনাফার বর্তমান হার ও নিয়ম
বর্তমানে জিপিএফ-এর মুনাফা বন্টন করা হয় স্ল্যাব বা ধাপভিত্তিক পদ্ধতিতে। সরকারের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী মুনাফার হার নিম্নরূপ:
| জমার পরিমাণ (টাকা) | মুনাফার হার (%) |
| ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত | ১৩% |
| ১৫ লক্ষ ১ টাকা থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত | ১২% |
| ৩০ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে | ১১% |
জিপিএফ তহবিলের বিশেষ সুবিধাসমূহ:
বাধ্যতামূলক সঞ্চয়: মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫% থেকে সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত অর্থ এই তহবিলে জমা রাখা যায়।
চক্রবৃদ্ধি মুনাফা: জমানো অর্থের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা পাওয়া যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় অংকের সঞ্চয় তৈরি করে।
ঋণ সুবিধা: বিশেষ প্রয়োজনে জমানো টাকা থেকে ফেরতযোগ্য অগ্রিম বা ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।
উত্তোলন: ৫২ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর অফেরতযোগ্য অগ্রিম এবং চাকরি শেষে পূর্ণ টাকা মুনাফাসহ উত্তোলন করা যায়।
সতর্কতা:
যদি কোনো কারণে অনলাইন বা এসএমএস-এ তথ্য না পাওয়া যায়, তবে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নিয়ে নিকটস্থ হিসাবরক্ষণ অফিসে (Accounts Office) সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল এই পদ্ধতির ফলে সরকারি কর্মচারীরা এখন যেকোনো সময় তাদের ভবিষ্যতের সঞ্চয় মনিটর করতে পারছেন, যা আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

