জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে ভুয়া বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তবে অনেকেই জানেন না যে, নামজারি আদেশে অসঙ্গতি বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
ভূমি প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোনো নামজারি আদেশ জারি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি মনে করেন যে আদেশটি ভুল তথ্য, প্রতারণা, জাল দলিল বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড অফিসে রিভিউ আবেদন করতে পারেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, State Acquisition and Tenancy (SA&T) Act-এর ১৫০ ধারার অধীনে নামজারি সংক্রান্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন দাখিল করা যায়। অর্থাৎ, আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করলে তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার সুযোগ থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি চলতি মাসের ১ তারিখে কোনো ভুয়া নামজারি সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রকৃত স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসিল্যান্ড অফিসে রিভিউ আবেদন জমা দিতে পারবেন। আবেদনপত্রে ভুয়া নামজারির অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিল, মালিকানার কাগজপত্র, খতিয়ান, পর্চা, নিবন্ধিত দলিল বা অন্যান্য প্রমাণ সংযুক্ত করা উচিত।
ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, রিভিউ আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় শুনানি গ্রহণ করতে পারেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পূর্ববর্তী নামজারি আদেশ সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
তবে আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, ৩০ দিনের সময়সীমা অতিক্রম করলে রিভিউ আবেদন জটিল হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী আপিল, দেওয়ানি মামলা বা অন্যান্য আইনগত প্রতিকার গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।
ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং প্রকৃত মালিকের অধিকার সংরক্ষণের স্বার্থে নামজারি আদেশ পাওয়ার পর দ্রুত তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেলে সময় নষ্ট না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
