নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন আর শুধু নতুন মূল বেতন কত হবে—এ প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বরং নতুন বেতন কার্যকর হলে হাতে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা থাকবে, বর্তমানে পাওয়া ১০–১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধার কী হবে এবং গত কয়েক মাসে পাওয়া অর্থের কোনো সমন্বয় হবে কি না—এসব নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন হিসাবের জটিলতা।
বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য চালু থাকা ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ধরনের হিসাব দেখা যাচ্ছে। এক পক্ষ বলছে, নতুন পে স্কেলে এই ১৫ শতাংশ ‘বাদ’ যাবে, তাই সম্ভাব্য বেতন হিসাবের সময় শুরুতেই ১৫ শতাংশ কমাতে হবে। অন্য পক্ষের যুক্তি—১৫ শতাংশ কখনোই মূল বেতনের অংশ ছিল না; তাই নতুন পে স্কেলে এটি যোগ করে আবার বাদ দেওয়ার মতো কোনো হিসাবই নেই।
বাস্তবে দুটি হিসাবের উদ্দেশ্য আলাদা। আর এই পার্থক্যটি না বুঝলেই ‘বেতন বাড়ছে’, ‘বেতন কমছে’ বা ‘১৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে’—এ ধরনের বিভ্রান্তিকর হিসাব তৈরি হচ্ছে।
প্রথমেই যে বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি
২০২৫ সালের ৩ জুনের সরকারি প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১ম–৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ওপর ১০ শতাংশ এবং ১০ম–২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ১৫ শতাংশ হারে ‘বিশেষ সুবিধা’ চালু করা হয়। অর্থাৎ ১০ম–২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে এই ১৫ শতাংশ ছিল মূল বেতনের ওপর প্রদেয় আলাদা বিশেষ সুবিধা, মূল বেতনের অংশ নয়।
অতএব, কেউ যদি ১০,০০০ টাকা মূল বেতন পান এবং ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পান, তাহলে বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ১,৫০০ টাকা। মোট প্রাপ্তি দাঁড়ায় ১১,৫০০ টাকা—কিন্তু তার মূল বেতন ১০,০০০ টাকাই।
এখানেই পুরো বিতর্কের কেন্দ্র।
নতুন পে স্কেলে ১৫ শতাংশ কোথায় গেল?
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন স্কেলের মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নতুন পে স্কেলের বেসিক নির্ধারণের সূত্রের সঙ্গে পুরোনো ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধাকে এক করে দেখা যাবে না।
অর্থাৎ,
নতুন মূল বেতন = নতুন পে স্কেলের নির্ধারিত মূল বেতন
এখানে আগের ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা যোগ করে তারপর সেটি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—তাহলে মানুষ ১৫ শতাংশ বাদ দিয়ে হিসাব করছে কেন?
কারণ তারা অনেক ক্ষেত্রে নতুন মূল বেতন নয়, বরং নতুন স্কেলে গিয়ে বর্তমান মোট প্রাপ্তির তুলনায় প্রকৃত আয় কতটা বাড়বে—সেটি বের করার চেষ্টা করছেন।
দুই ধরনের হিসাব—এটাই আসল বিষয়
ধরা যাক, একজন কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন ২০,০০০ টাকা।
১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা:
২০,০০০ × ১৫% = ৩,০০০ টাকা
অর্থাৎ বিশেষ সুবিধাসহ তিনি পাচ্ছেন:
২০,০০০ + ৩,০০০ = ২৩,০০০ টাকা
এখন নতুন পে স্কেলে তার মূল বেতন যদি ৩০,০০০ টাকা হয়, তাহলে প্রথম হিসাব হবে:
নতুন মূল বেতন = ৩০,০০০ টাকা
এখানে ৩,০০০ টাকা ‘বাদ’ দেওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। কারণ নতুন মূল বেতন নির্ধারণের সময় ৩,০০০ টাকা মূল বেতনের অংশই ছিল না।
কিন্তু যদি প্রশ্ন হয়—
“আগে ২৩,০০০ টাকা পেতাম, এখন নিয়মিতভাবে হাতে কত পাব?”
তাহলে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা আর না থাকলে তুলনা হবে:
আগের মোট প্রাপ্তি = ২৩,০০০ টাকা
বনাম
নতুন স্কেলের প্রযোজ্য বেতন ও ভাতা = নতুন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত অঙ্ক
এখানে ১৫ শতাংশ সুবিধা বন্ধ হওয়ার প্রভাব অবশ্যই থাকবে।
অর্থাৎ ১৫ শতাংশকে নতুন বেতন থেকে ‘কর্তন’ করা হচ্ছে না; বরং পুরোনো মোট আয়ের একটি অংশ নতুন কাঠামোয় আর থাকছে না।
এই দুই বক্তব্য দেখতে কাছাকাছি হলেও অর্থনৈতিকভাবে এক নয়।
তাহলে ‘কর্তন’ শব্দটি এত বেশি আসছে কেন?
কারণ আরও একটি বিষয় রয়েছে—কার্যকর তারিখ এবং বাস্তব বেতন পরিশোধের তারিখ।
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। কিন্তু নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ অবস্থায় যদি পুরোনো ব্যবস্থায় কোনো কর্মচারী ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পেয়ে যেতে থাকেন, অথচ চূড়ান্ত বাস্তবায়ন বিধিতে যদি বলা হয় যে ওই তারিখ থেকে সুবিধাটি আর প্রাপ্য নয়, তাহলে আগে পাওয়া অর্থের হিসাব-নিকাশ ও সমন্বয়ের প্রশ্ন উঠতে পারে।
এটি কিন্তু নতুন পে স্কেলের মূল বেতন থেকে ১৫ শতাংশ কেটে নেওয়া—এমন সরল বিষয় নয়।
বরং বিষয়টি হতে পারে:
প্রাপ্য ছিল কি না → কত টাকা পরিশোধ হয়েছে → কত টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ হয়েছে → সেটি কীভাবে সমন্বয় হবে।
এই চারটি ধাপ আলাদা।
‘অতিরিক্ত উত্তোলন’ আর ‘নতুন বেতন থেকে কর্তন’ এক জিনিস নয়
ধরা যাক, জুলাই থেকে নতুন নিয়মে বিশেষ সুবিধা আর প্রাপ্য নয়। কিন্তু বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—তিন মাস কর্মচারী পুরোনো নিয়মে ১৫ শতাংশ সুবিধা পেলেন।
ধরা যাক প্রতি মাসে ওই সুবিধা ৩,০০০ টাকা।
তাহলে তিন মাসে পাওয়া অর্থ:
৩,০০০ × ৩ = ৯,০০০ টাকা
যদি চূড়ান্ত বিধিতে এই ৯,০০০ টাকা প্রাপ্য না হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে সেটি সমন্বয়ের প্রশ্ন আসতে পারে।
কিন্তু তখন বলা যাবে না যে—
“নতুন পে স্কেলে মূল বেতন থেকে ১৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে।”
বরং বলা বেশি সঠিক হবে—
“কার্যকর তারিখের পর প্রাপ্য না থাকা বিশেষ সুবিধা আগে পরিশোধ হয়ে থাকলে তা পরবর্তী বকেয়া/প্রাপ্য অর্থের সঙ্গে সমন্বয় হতে পারে।”
চূড়ান্তভাবে কীভাবে সমন্বয় হবে, সেটি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ, গেজেট/প্রজ্ঞাপন এবং বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।
আরেকটি বড় ভুল: ১৫ শতাংশকে ‘বেতন’ বলা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক হিসাবের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে—
বর্তমান বেতন = মূল বেতন + ১৫%
এরপর নতুন পে স্কেলের বেতন থেকে আবার ১৫ শতাংশ বাদ দেওয়া হচ্ছে।
এখানে হিসাবের উদ্দেশ্য পরিষ্কার না করলে বিভ্রান্তি তৈরি হবেই।
১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা যদি মূল বেতনের বাইরে আলাদা সুবিধা হয়, তাহলে সেটিকে মূল বেতন হিসেবে ধরে নতুন পে স্কেলের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যাবে না।
তবে বর্তমান মোট মাসিক প্রাপ্তি হিসাব করতে চাইলে সেটি অবশ্যই বিবেচনায় আসবে।
অর্থাৎ—
মূল বেতন হিসাব:
১৫% নয়
বর্তমান মোট আয় হিসাব:
১৫% থাকবে
নতুন স্কেলে বিশেষ সুবিধা বন্ধ হলে ভবিষ্যৎ মোট আয় হিসাব:
১৫% থাকবে না
আগের মাসগুলোর অতিরিক্ত পরিশোধ সমন্বয় হলে:
আলাদা কর্তন/সমন্বয়ের হিসাব হতে পারে
এই চারটি হিসাব এক নয়।
১১তম গ্রেডের কর্মচারীর ‘৩২,৭৫০ থেকে ৬৫,৫০০’ উদাহরণ কেন সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে?
আলোচনায় একজন ১১তম গ্রেডের কর্মচারীর উদাহরণ এসেছে—আগে মোট ৩২,৭৫০ টাকা পেতেন, নতুন পে স্কেলে ৬৫,৫০০ টাকা পাবেন বলে অনেকে ধরে নিচ্ছেন।
এখানে সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে বেসিকের সঙ্গে মোট বেতনকে এক করে ফেলা।
কোনো কর্মচারীর হাতে পাওয়া অর্থ নির্ভর করে—
- মূল বেতন;
- বাড়িভাড়া ভাতা;
- চিকিৎসা ভাতা;
- বিশেষ সুবিধা;
- অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা;
- কর্তন;
- কর;
- জিপিএফ/অন্যান্য কর্তন;
- নতুন স্কেলের ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন;
- এবং ভবিষ্যৎ ভাতা কার্যকরের সময়সূচির ওপর।
সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামোয় মূল বেতন একসঙ্গে পুরোপুরি কার্যকর না হয়ে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে এবং বিভিন্ন ভাতা পরবর্তী ধাপে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
ফলে নতুন স্কেলের সর্বোচ্চ/চূড়ান্ত মূল বেতনকে প্রথম দিন থেকেই হাতে পাওয়া মোট বেতন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
এখানেই ‘বেতন দ্বিগুণ’ দাবির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
ধরা যাক, পুরোনো ব্যবস্থায় কারও মোট প্রাপ্তি ৩২,৭৫০ টাকা।
কেউ নতুন স্কেলের কোনো একটি চূড়ান্ত অঙ্ক দেখে বললেন—
“নতুন বেতন ৬৫,৫০০ টাকা—অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ!”
এই বক্তব্য তখনই সঠিক হবে, যখন ৬৫,৫০০ টাকা তার বাস্তব প্রাপ্য মোট মাসিক বেতন, একই সময়ে প্রযোজ্য সব ভাতা ও কর্তন বিবেচনার পরও, এবং সেটি তার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে।
শুধু নতুন পে স্কেলের কোনো বেতন ধাপকে বর্তমান মোট প্রাপ্তির সঙ্গে তুলনা করে ‘দ্বিগুণ’ বলা হলে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: প্রকৃত লাভ কত?
একজন কর্মচারীর জন্য সবচেয়ে অর্থবহ হিসাব আসলে এটি:
নতুন মূল বেতন কত?
তারপর—
নতুন কার্যকর ভাতা কত?
তারপর—
পুরোনো কোন সুবিধা বন্ধ হচ্ছে?
তারপর—
কোনো অতিরিক্ত উত্তোলন সমন্বয় হবে কি না?
সবশেষে—
প্রতি মাসে হাতে কত টাকা থাকবে?
এই শেষ অঙ্কটিই পরিবারের বাজেটের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ কাগজে মূল বেতন ৫০ শতাংশ, ৭০ শতাংশ বা ১০০ শতাংশ বাড়লেও যদি পুরোনো কোনো সুবিধা বন্ধ হয়, ভাতা পরে কার্যকর হয় কিংবা পূর্বে পাওয়া অর্থ সমন্বয় করা হয়, তাহলে ‘মূল বেতন কত শতাংশ বেড়েছে’ এবং ‘হাতে পাওয়া টাকা কত শতাংশ বেড়েছে’—দুটি একই হবে না।
তাহলে ১৫ শতাংশ নিয়ে সঠিক অবস্থান কোনটি?
পুরো বিষয়টি এক লাইনে বলা যায়:
১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা নতুন মূল বেতনের ওপর থেকে ‘কেটে নেওয়া হচ্ছে’—এভাবে বলা ঠিক নয়; বরং নতুন পে স্কেলে ওই বিশেষ সুবিধা আর প্রযোজ্য না হলে বর্তমান মোট প্রাপ্তির তুলনায় সেটি ভবিষ্যৎ আয়ে আর থাকবে না। আর কার্যকর তারিখের পরও যদি সুবিধাটি পরিশোধ হয়ে থাকে এবং তা অনধিকার/অতিরিক্ত উত্তোলন হিসেবে নির্ধারিত হয়, তাহলে আলাদা সমন্বয় বা কর্তনের প্রশ্ন আসতে পারে।
এ কারণেই কেউ যদি শুধু নতুন বেসিক বের করেন, সেখানে ১৫ শতাংশ বাদ দেওয়া অপ্রয়োজনীয়।
আবার কেউ যদি বর্তমান হাতে পাওয়া মোট টাকা বনাম নতুন স্কেলে হাতে পাওয়া মোট টাকা তুলনা করেন, সেখানে ১৫ শতাংশ সুবিধা বন্ধ হওয়ার বিষয়টি বাদ দিলে হিসাব অসম্পূর্ণ থাকবে।
আর একটি বিষয় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
৩১ আগস্ট ২০২৬-এর মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর নবম পে স্কেল নিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্র গেজেট/এসআরও এবং বাস্তবায়ন নির্দেশনা। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী নতুন স্কেলের বিভিন্ন অংশ এসআরওর মাধ্যমে পরিষ্কার করা হবে।
অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন “হাতে পাবেন ঠিক এত টাকা”, “১৫ শতাংশ এত টাকা কেটে নেবে”, “পুরো বেতন দ্বিগুণ হবে”—এ ধরনের হিসাবকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার আগে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশনা দেখা জরুরি।
কারণ শেষ পর্যন্ত কর্মচারীর মূল বেতন নির্ধারণ, বিশেষ সুবিধা বাতিল, ভাতা কার্যকর, বকেয়া নির্ধারণ এবং পূর্বে উত্তোলিত অর্থ সমন্বয়—প্রতিটি বিষয় আলাদা আদেশে স্পষ্ট হতে পারে।
সারকথা
১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা ‘নতুন বেতন থেকে কেটে নেওয়া টাকা’ নয়। এটি পুরোনো ব্যবস্থায় মূল বেতনের ওপর পাওয়া আলাদা একটি সুবিধা। নতুন পে স্কেলে যদি সেটি বাতিল হয়, তাহলে ভবিষ্যতের মোট আয় হিসাব করার সময় সেটি আর যোগ হবে না। আর জুলাইয়ের পরও যদি প্রাপ্য না থাকা সত্ত্বেও সেটি পরিশোধ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি পরবর্তী বকেয়া থেকে সমন্বয় করার প্রশ্ন আলাদা।
তাই নবম পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন হিসাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো—“নতুন বেসিক”, “প্রযোজ্য ভাতা”, “বন্ধ হওয়া সুবিধা”, “সম্ভাব্য সমন্বয়” এবং “হাতে পাওয়া নিট টাকা”—এই পাঁচটি আলাদা কলামে হিসাব করা।
তাহলেই বোঝা যাবে—বেতন আসলে কতটা বাড়ছে, আর কাগজে বাড়ছে কতটা।

